রাজধানীতে সবজির দাম আকাশচুম্বি, দিশেহারা ক্রেতা

হাসান ইসলাম প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৫, ০৫:২০ পিএম
রাজধানীতে সবজির দাম আকাশচুম্বি, দিশেহারা ক্রেতা

গত কয়েক সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগাতার বেড়েই চলেছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছমাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবজির দাম হু হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে ক্রেতারা। বিশেষকরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি সবজির দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে।

বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়শ, পটল, শাক প্রভৃতি কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আকাশচুম্বি দাম বেড়েছে। প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলানো যাচ্ছে না। এতে সবজি বাজারে আগুনের আঁচ শুধু চুলায় নয়, এখন তা পকেট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। 

বুধবার দয়াগঞ্জ বাজারে সন্ধ্যায় ঢুকতেই প্রথম চোখে পড়ে বেগুন ১০০-১৪০ টাকা কেজি। ঢেঁড়স ১০০, করলা ৯০-১০০, কাঁকরোল ১৩০ টাকা পর্যন্ত। শসা ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৭৫ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা এবং শাঁক আটি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল পেয়াজ ৫০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, শঁশা ৫০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা। এ নিয়ে দয়াগঞ্জ বাজারে এক সবজি ক্রেতা জেসমিন আক্তার বলেন, এক কেজি বেগুন  নিলাম ৯০ টাকায়, পেঁয়াজ ৭০,  শসা ৮০ টাকা। টমেটো কিনলাম ১২০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে তো আমাদের রান্নাঘর বন্ধ হয়ে যাবে। সরেজমিনে ধূপখোলা বাজার, লক্ষ্মীবাজার ঘুরে দেখলে একই দৃশ্য দেখা যায়। এ বিষয়ে ধুপখোলার সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, সকালে সবজি এনে বিকেলেই খালি হয়ে যায়, কিন্তু দাম কমানো যাচ্ছে না। আমরাও পুড়ছি, লাভ নেই। পাইকারি আড়তে দাম না কমালে আমরাও দাম কমাতে পারি না। কিছুদিন আগেও কম দামে বিক্রি করেছি কিন্তু এখন সেই দামে পারছি না।

পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি সবজির প্রাপ্যতা কম থাকলে দাম দ্রুত বাড়ে। অন্যদিকে পরিবহন ব্যয়, জ্বালানির দামবৃদ্ধি এবং পাইকারি বাজারে সরবরাহ ঘাটতি খুচরা দামে চাপ তৈরি করছে। আবার বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কম নয়। ফলে ক্রেতা ও কৃষকের মাঝেই আসল মুনাফা পকেটস্থ হচ্ছে দালালদের।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হঠাৎ করে আবহাওয়ার তারতম্য, টানা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাঠ থেকে পর্যাপ্ত সবজি উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই মৌসুমি সবজি না পাওয়ায় দ্রুত দাম বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমি সবজি দীর্ঘদিন রাখা যায় না। তাই চাহিদা বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক ঘাটতি তৈরি হয়। এতে সবজির দাম বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদরা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল না থাকলে তা মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতিতে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্নআয়ের মানুষ। 

তবে সবজির বাজারে এ অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। নিয়মিত তদারকি ও সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এর চাপ আরও বেড়ে যাবে। সরকার, প্রশাসন ও বাজার-সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই আগুন শুধু বাজারেই নয় -জনজীবনে ছড়িয়ে পড়বে।

এইচই/জেএইচআর