ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের মধ্যেই প্রতিবেশী দেশটি থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানির বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও বাণিজ্যিক ও জনসাধারণের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে চালের দাম চড়া থাকা সত্ত্বেও ভারতের কাছ থেকে গতবারের চেয়েও কম দামে এই চাল পাওয়া যাচ্ছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানির তুলনায় ভারত থেকে চাল আনা হলে প্রতি কেজিতে খরচ অন্তত ১০ টাকা কম হবে।
বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার রাজনৈতিক ইস্যু আর বাণিজ্যিক নীতিকে আলাদা করে দেখার আহ্বান জানিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জনসাধারণের সুবিধার্থে যেখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া যাবে, সরকার সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করবে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব একটা খারাপ হবে না।” তিনি আরও জানান, দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ক্রয়সংক্রান্ত এই বৈঠকে চাল ছাড়াও আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, মরক্কো থেকে ৯০ হাজার টন টিএসপি সার এবং বিদেশ থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির অনুমোদন।
সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে প্রচুর পরিমাণে রাইস ব্র্যান অয়েল আমদানির পরিকল্পনা।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভবনের জন্য ১০৫ কোটি টাকা এবং ময়মনসিংহে ১৯টি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণের অনুমোদন।
অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত পর্যায়ের কোনো নেতিবাচক বক্তব্য বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, তবে জাতীয় স্বার্থে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন