বেগম জিয়ার প্রয়াণে অগ্রণী ব্যাংকের শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৮:১০ এএম
বেগম জিয়ার প্রয়াণে অগ্রণী ব্যাংকের শোক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশের আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, এই মহীয়সী নেত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার গৃহীত নীতিসমূহ আজও অগ্রণী ব্যাংকসহ পুরো আর্থিক খাতের জন্য এক অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে।

অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে। 

ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রেরিত আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম পথপ্রদর্শক। তার শাসনামলে গৃহীত সাহসী পদক্ষেপসমূহ দেশের ব্যাংকিং খাতকে আধুনিকায়ন ও বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করেছিল। আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়কালে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসে।

অগ্রণী ব্যাংক মনে করে, আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপনে তার অবদান অনস্বীকার্য। নব্বইয়ের দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবর্তন এবং বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের বিকাশে তিনি যে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন, তা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল। বেগম জিয়া বিশ্বাস করতেন, নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তার সময়েই ক্ষুদ্রঋণ এবং বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং ঋণের পথ প্রশস্ত করা হয়েছিল, যা আজ অগ্রণী ব্যাংকের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার সরকারের গৃহীত নীতিসমূহ ছিল অত্যন্ত কার্যকর। তার শাসনামলে কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তি সহজতর করা এবং কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক হ্রাসের ফলে অগ্রণী ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণ খাতে ব্যাপক গতিশীলতা আসে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ঋণের সূচনা হয়েছিল তাঁর নির্দেশনায়, যার সুবিধাভোগী আজও দেশের হাজার হাজার মানুষ।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে অগ্রণী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন সার্কেল ও শাখা পর্যায়ে কালো ব্যাজ ধারণ এবং বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক স্মরণ সভায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। 

তারা উল্লেখ করেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নারীর সামাজিক মর্যাদাকে যেভাবে উচ্চশিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন, তা ব্যাংকিং খাতে নারী কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক শূন্যতা নয়, বরং একটি যুগের অবসান। তিনি যখনই ক্ষমতায় ছিলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে সচেষ্ট ছিলেন। অর্থঋণ আদালত আইন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার সরকারের প্রচেষ্টা আজও ব্যাংকারদের কাছে স্মরণীয়।

ব্যাংকের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মচারীদের মতে, বেগম জিয়া ছিলেন সাধারণ মানুষের নেতা। তার প্রয়াণে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। অগ্রণী ব্যাংক পরিবার বিশ্বাস করে, তাঁর প্রদর্শিত দেশপ্রেম এবং উন্নয়নের আদর্শ অনুসরণ করেই দেশ আগামীতে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। 

বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া উন্নয়ন দর্শন এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন আমাদের পথ দেখাবে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি তার অবদানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছে।

ইএইচ