ইতিহাসের এক মহাপ্রয়াণ, যে ধ্রুবতারাটি দীর্ঘকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ ও অর্থনৈতিক অভিযাত্রায় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছে, আজ তা মহাকালের দিগন্তে অস্তমিত। বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে আজ গভীর বিষাদ।
জনতা ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী প্রশাসন এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত কর্মীবাহিনী আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে সেই মহান নেত্রীকে স্মরণ করছে, যিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়ন ও স্বনির্ভরতার অন্যতম রূপকার ছিলেন।
জনতা ব্যাংক পিএলসির পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সফল রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এদেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল। তার শাসনামলে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে যে কৃষি ও শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, তা আজও আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছি যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।
ব্যাংকিং খাতের স্থপতি হিসেবে জনতা ব্যাংক মনে করে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের আর্থিক বাজারে আমূল পরিবর্তন এনেছিল। তার গৃহীত উদার অর্থনৈতিক নীতি এদেশের ব্যাংকিং খাতকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সহায়তা করেছে। শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে বৃহৎ শিল্পে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের বিকাশে তার সময়কাল ছিল অনন্য।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক শিল্পোদ্যোক্তার প্রথম অর্থায়ন হয়েছিল তার সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে। বিদেশের মাটিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম, যেমন আবুধাবি ও দুবাইয়ের শাখাগুলোর কাজ বেগবান করতে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে তার সরকারের কূটনীতি ও প্রবাসী বান্ধব নীতি অত্যন্ত কার্যকর ছিল। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে তার সময়ে অর্থঋণ আদালত আইন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি সংস্কার ছিল অত্যন্ত যুগান্তকারী, যা খেলাপি ঋণ আদায়ের পথ প্রশস্ত করেছিল।
প্রান্তিক উন্নয়ন ও কৃষকের পাশে জনতা ব্যাংক সব সময় ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার তৃণমূল উন্নয়ন দর্শনের সাথে জনতা ব্যাংকের একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, কৃষকের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। তার শাসনামলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের যে কালজয়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে জনতা ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে তার দেওয়া প্রাথমিক নির্দেশনাই আজকের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
মহাকালের এই মহীয়সী নেত্রীর প্রয়াণে জনতা ব্যাংক পিএলসি গভীর শ্রদ্ধার সাথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় জনতা ভবনসহ সকল বিভাগীয় ও শাখা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী শোকের প্রতীক হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন।
প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, বেগম জিয়া ছিলেন সাহসের এক অপরাজেয় শক্তি। তার প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ব্যাংকিং খাতের প্রতি তার মমত্ববোধ আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে। ব্যাংকের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে মরহুমার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
জনতা ব্যাংকের প্রবীণ নির্বাহীগণ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার শাসনামলে ব্যাংকারদের মর্যাদা ও পেশাদারিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপসহীন। তিনি মনে করতেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রতিটি টাকা জনগণের আমানত, আর সেই আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ব্যাংকারদের পবিত্র দায়িত্ব। তার এই নীতিকথা আজও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাজের প্রেরণা। বিশ্বের সাবেক দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের পথপ্রদর্শকই নন, বরং মুসলিম বিশ্বে একজন প্রভাবশালী সফল নেত্রী হিসেবেও স্বীকৃত। তাঁর মৃত্যুতে একটি গৌরবময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
বিদায় মহাপ্রাণ, বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা, দেশপ্রেম এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন চিরকাল অম্লান থাকবে। জনতা ব্যাংক পিএলসি পরিবার বিশ্বাস করে, তার প্রদর্শিত উন্নয়নের পথ ধরেই আমরা একটি সমৃদ্ধ ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হব। আল্লাহ তাআলা তার সকল নেক আমল কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতবাসী করুন। আমীন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন