সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সোনালী ব্যাংক পিএলসির গভীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৮:৩৪ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সোনালী ব্যাংক পিএলসির গভীর শোক

দেশের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী সোনালী ব্যাংক পরিবারের শোকগাথা এবং একটি নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশের সমগ্র আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের ন্যায় সোনালী ব্যাংক পরিবার আজ গভীরভাবে শোকাহত। 

দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় তিনি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে রূপরেখা অঙ্কন করেছিলেন, তার অনেকখানি জুড়ে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন। সোনালী ব্যাংক পিএলসি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

সোনালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয়, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেবল গণতান্ত্রিক যাত্রায় নেতৃত্ব দেননি, বরং বাংলাদেশের ব্যাংকিং কাঠামোর ভিত্তি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সোনালী ব্যাংক পরিবার তাঁর এই অবদানকে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করছি।

ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়ন ও তার দূরদর্শী নেতৃত্ব সম্পর্কে সোনালী ব্যাংক পিএলসি মনে করে, আজকের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যে প্রাথমিক কাঠামো, তার অনেক কিছুরই সূচনা হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে তাঁর গৃহীত নীতিমালার মাধ্যমে। আর্থিক খাতের সংস্কারের ক্ষেত্রে তার সময়েই দেশে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের প্রসারের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি শক্তিশালী আর্থিক খাত ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। 

রপ্তানি বাণিজ্যে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য রপ্তানি খাতে সহজ শর্তে অর্থায়নের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার পেছনে তাঁর সরকারের উদার শিল্পনীতির বড় অবদান ছিল। তাঁর নির্দেশনায় ব্যাংকিং খাতে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা খোলার মাধ্যমে দেশের নারী সমাজকে অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করা হয়েছিল।

সোনালী ব্যাংক যেহেতু দেশের প্রান্তিক মানুষের ব্যাংক, তাই বেগম জিয়ার তৃণমূল উন্নয়ন দর্শনের সাথে এই ব্যাংকের কার্যক্রমের গভীর যোগসূত্র ছিল। কৃষকদের প্রতি তার মমত্ববোধ থেকে তিনি দশ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খোলার যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ ও সহজীকরণ করেছিলেন, তার প্রত্যক্ষ অংশীদার ছিল সোনালী ব্যাংক। এর ফলে কোটি কোটি কৃষক ও প্রান্তিক মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসার সুযোগ পায়। সোনালী ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং দুস্থদের সহায়তার যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, তা তাঁর শাসনামলেই অধিকতর বেগবান হয়েছিল।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ দেশব্যাপী সকল শাখা ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে শোকের আবহ বিরাজ করে। ব্যাংকের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ শোকের চিহ্ন হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তার বর্ণাধ্য কর্মজীবন ও দেশের সেবায় তার ত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়। 

এক স্মৃতিচারণ সভায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকবৃন্দ উল্লেখ করেন, দেশনেত্রীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপে সোনালী ব্যাংক একসময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা আমাদের কাজের প্রেরণা হয়ে থাকবে।

সোনালী ব্যাংক ও বেগম জিয়ার স্মৃতির ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে এই ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের অংশ। বেগম খালেদা জিয়া যখনই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিলেন, সোনালী ব্যাংকের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বমানের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিতেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরাতে তাঁর কঠোর অবস্থান ব্যাংকারদের মাঝে আজও চর্চিত হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, সোনালী ব্যাংক যদি শক্তিশালী হয়, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। 

সোনালী ব্যাংক পরিবারের প্রবীণ কর্মকর্তাদের মতে, তিনি ছিলেন একজন মমতাময়ী জননী এবং কঠোর প্রশাসক। তাঁর মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটল। ব্যাংকের তরুণ কর্মকর্তারাও তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সাহসিকতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার শপথ নিয়েছেন।

অমর কীর্তি ও অক্ষয় স্মৃতি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়নমূলক কাজ, নারীর ক্ষমতায়নের নীতি এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন প্রতিটি ব্যাংকারের হৃদয়ে জাগ্রত থাকবে। সোনালী ব্যাংক পিএলসি পরিবার তাঁর বিদেহী আত্মার সর্বোচ্চ জান্নাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। শোকান্তে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।