ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি, মাছ ও মুরগির বাজার চড়া

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি, মাছ ও মুরগির বাজার চড়া

শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রভাবে রাজধানীর বাজারে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মুরগির বাজার এখনো আগের মতোই চড়া রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এই চিত্র দেখা গেছে।

ডিমের বাজারে স্বস্তি সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের লাল ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম এখন ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে। এছাড়া সাদা ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের মৌসুমে বাজারে প্রচুর শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর বাড়তি চাপ কমেছে, যার ফলে দামও নিম্নমুখী।

স্থিতিশীল কিন্তু চড়া মুরগির বাজার মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ ও চাহিদা সমান থাকায় দাম স্থির রয়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, বছরের শুরুতে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম কেন কমছে না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।

অপরিবর্তিত মাংসের দাম গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দাম অপরিবর্তিত থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

মাছ বাজারে উত্তাপ মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে দামের চরম অস্থিরতা। বাজারে রুই ও কাতলা মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের মধ্যে টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ইলিশের দাম এখনো আকাশছোঁয়া; এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিমের ক্ষেত্রে বিকল্প পণ্যের (সবজি) উপস্থিতি দাম কমাতে সাহায্য করলেও মাছ ও মুরগির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের প্রভাব বা বাড়তি চাহিদাই দাম উঁচুতে ধরে রেখেছে। ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ এখনো হিমশিম খাচ্ছে।

জেএইচআর