দ্বি-দলীয় নির্বাচন ও ভঙ্গুর অর্থনীতি: সিপিডির বিশ্লেষণ ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
দ্বি-দলীয় নির্বাচন ও ভঙ্গুর অর্থনীতি: সিপিডির বিশ্লেষণ ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ হাজির করেছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, দেশে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে, তা শেষ পর্যন্ত একটি দ্বি-দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির জন্য কেবল দুটি প্রধান দলের অংশগ্রহণই যথেষ্ট নয়।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এবারের নির্বাচনটি মূলত দুটি ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ ধরনের দ্বি-দলীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষের বৈচিত্র্যময় প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ অনেক কমে যায়। কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া জরুরি ছিল। তিনি মনে করেন, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রতিফলন ঘটাতে হলে রাজনৈতিক পরিসর আরও বড় হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নও তুলে ধরে। গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর ও জরাজীর্ণ অর্থনীতি পেয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সংস্কারকে তাদের মূল এজেন্ডা বা অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেনি, যা দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য প্রয়োজন ছিল।

এছাড়াও, সরকার নতুন করে অর্থপাচার বন্ধ করতে সফল হলেও, বিগত সময়ে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে সিপিডি জানিয়েছে, ইশতেহারে মেগা প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা ইতিবাচক। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংস্থাটি কিছু সতর্কতা দিয়েছে:

নতুন মেগা প্রকল্পের চেয়েও চলমান এবং অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোকে সফলভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং শেষ করাটা আগামী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

নতুন করে বেসরকারি খাতে আর কোনো ব্যাংক বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন না দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল ও আগামী সরকারের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছে সিপিডি। তাদের মতে, এসব খাতে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট বিশৃঙ্খলা ও সক্ষমতার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ বিদ্যমান।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশগত ঝুঁকির ওপর একটি জরিপের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। জরিপের ফলাফল বলছে, ৮১ শতাংশ ভোটার মনে করেন দেশে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। তাছাড়া বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে নাগরিকরা বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সিপিডি পরামর্শ দিয়েছে যে, আগামী সরকারকে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনার বিষয়ে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, অর্থনীতিকে কেবল প্রবৃদ্ধি দিয়ে বিচার করলে চলবে না; একে সবুজ ও টেকসই করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে কীভাবে একটি উৎপাদনশীল অর্থনীতি গড়া যায়, সেটিই হওয়া উচিত আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।

সিপিডির এই পর্যবেক্ষণ এমন এক সময়ে এল যখন দেশ নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষণ গণনা করছে। একদিকে দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে নতুন যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের জন্য পথ চলা খুব একটা সহজ হবে না বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই শীর্ষ গবেষণা সংস্থা।

এএন