জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর ৬টি ডিও (আধা-সরকারি) লেটার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে এই ডিও লেটারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়।
ডিও লেটার প্রদানকারী সংসদ সদস্যরা হলেন- মনজুর এলাহী (নরসিংদী-৩), মো. রবিউল আউয়াল (টাঙ্গাইল-৬), মোহাম্মদ আলী আসগার (খুলনা-৫), মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬), মো. আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩) এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরা।
সংসদ সদস্যরা তাঁদের ডিও লেটারে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক এবং এটি হৃদরোগ, ক্যানসার ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগ বাড়াচ্ছে। তামাকের বর্তমান মূল্য কাঠামো অত্যন্ত কম হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এগুলো খুব সহজেই সহজলভ্য হয়ে উঠছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের দাম ও কর কাঠামো দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
চিঠিতে সিগারেটের ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের মূল্য ১৪০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
ডিও লেটারে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে কেবল সিগারেট খাত থেকেই প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবেন।
অর্থাৎ, একদিকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে, যা সরকার ও জনগণ উভয়ের জন্যই লাভজনক।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন