তেল নিয়ে শঙ্কা কাটছে না, অধিকাংশ পাম্পেই দীর্ঘ সারি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ১০:৪১ এএম
তেল নিয়ে শঙ্কা কাটছে না, অধিকাংশ পাম্পেই দীর্ঘ সারি

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হলেও জ্বালানি তেল নিয়ে সাধারণ মানুষের মনের শঙ্কা কাটছে না। গতকাল রোববার রাজধানীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পেই তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় অনেক পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গত শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এবার বাজারে ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এই পরিমাণ তেলই বর্তমানে রেশনিং করে বণ্টন করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এখন থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি। 

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন জ্বালানি পণ্য নিয়ে ১০টি জাহাজ এসে পৌঁছেছে বলে বন্দর সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জ্বালানি পরিস্থিতির বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের বর্তমানে রেশনিং করে চলতে হবে। সাশ্রয়ীভাবে চললে আমরা দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি আরও বলেন, আমরা এক কঠিন সময়ে সরকার গঠন করেছি, যার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব পড়লেও আমাদের মজুত সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি। তবে এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এক চিঠিতে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক খবরের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা ও স্টেশন কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং অবৈধ মজুত বা পাচার রোধে পুলিশি নিরাপত্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে।

আশার কথা হলো, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও দুটি জাহাজ আসার পথে রয়েছে। এছাড়া ওমান থেকে ৪১ হাজার টনের বেশি এলপিজি এবং মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে বেশ কিছু জাহাজ বন্দরে অবস্থান করছে। 

আগামী ১২ মার্চের মধ্যে আরও একটি বড় ডিজেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই জ্বালানি পণ্যগুলো খালাস হলে বাজারের বর্তমান অস্থিরতা দ্রুত কমে আসবে।

জেএইচআর