বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও বাংলাদেশ রিটেইল ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর ৩য় আসর। স্বপ্নের পরিবেশনায়, সিঙ্গার ও বাটারের সঞ্চালনায় এবং কনকা ও গ্রি (ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড) এর সহযোগিতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
শনিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনে ২৬টি ক্যাটাগরিতে ৬৪টি সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৪০টি উদ্যোগ বিজয়ী এবং ২৪টি উদ্যোগ অনারেবল মেনশন সম্মাননা অর্জন করে।
এই বছর সম্মাননার জন্য ৫৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয় একটি কঠোর, বহু-স্তরের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এতে ১৬ জন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন। পাঁচটি পৃথক জুরি সেশনে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। উদ্যোগগুলোকে তাদের লক্ষ্য, সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্দেশ্য, কার্যকারিতা এবং পরিমাপযোগ্য প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
২৬টি ক্যাটাগরির মধ্যে বেস্ট রিটেইলার ক্যাটাগরিতে ১৪টি সাব-ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত উদ্যোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জুয়েলারি, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, ফ্যাশন অ্যান্ড অ্যাপারেলস, ফুটওয়্যার, মোবাইল হ্যান্ডসেট, ফুড কোর্ট, ব্যাংক, অটোমোটিভ, ফার্নিচার, লাইফস্টাইল, কসমেটিকস অ্যান্ড স্কিন কেয়ার, ইলেকট্রনিকস এবং সুইট অ্যান্ড সেভরি।
তবে যথাযথ মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়ায় লাস্ট মাইল ডিস্ট্রিবিউশন ইনোভেশন, ইনস্পায়ারিং রিটেইলার অব দ্য ইয়ার এবং এক্সপেরিয়েন্সিয়াল রিটেইলার অব দ্য ইয়ার—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে কোনো বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।
আয়োজনের উদ্বোধনী বক্তব্যে সাজিদ মাহবুব, গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম; ভাইস প্রেসিডেন্ট, চ্যাপ্টার ডেভেলপমেন্ট-এশিয়া প্যাসিফিক ও গ্লোবাল ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভারটাইজিং অ্যাসোসিয়েশন; চিফ ডিজিটাল অফিসার, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ) বলেন, বর্তমান বাজারে রিটেইল খাত প্রযুক্তি, গ্রাহক প্রত্যাশা এবং উদ্দেশ্যনির্ভর ব্যবসায়িক মডেলের সংযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। যারা পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিয়ে রিটেইলের ভবিষ্যৎ রূপান্তরে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদেরই আজ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডসের আগে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস ২০২৬-এর ৮ম সংস্করণ। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “ট্রান্সফর্মিং রিটেইল থ্রু নলেজ”।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের শীর্ষ রিটেইলার, ব্র্যান্ড নেতৃত্ব, সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ, বিপণন পেশাজীবী এবং বিভিন্ন খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের রিটেইল খাতের পরিবর্তনশীল বাস্তবতা, যেখানে ডাটা-নির্ভর কৌশল, গ্রাহক আচরণ বিশ্লেষণ, অপারেশনাল দক্ষতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কংগ্রেসে তিনটি কি-নোট সেশন, তিনটি প্যানেল আলোচনা এবং দুটি ইনসাইট সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
কি-নোট সেশনে বক্তব্য রাখেন আশরাফ বিন তাজ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি বাংলাদেশ পিএলসি; বোর্ড ডিরেক্টর, এসিআই পিএলসি; অ্যাডভাইজর, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ); বোর্ড মেম্বার, মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি); শাদমান সাদিকিন, কাস্টমার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (সিবিডি) হেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সামি আশরাফ, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, ওমনি স্ট্র্যাটেজি।
তাদের আলোচনায় ডিস্ট্রিবিউশন দক্ষতা, উদ্দেশ্যনির্ভর ব্যবসায়িক কৌশল এবং পরিবর্তিত ভোক্তা প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিনির্ভর রিটেইল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অন্যান্য আলোচনায় রিটেইল খাতের ভবিষ্যৎ ধারা, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ও মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য, তৈরি পোশাক খাতের ভ্যালু চেইনের রূপান্তর এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে ডাটা, পার্সোনালাইজেশন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পায়।
স্বপ্নের পরিবেশনায়, সিঙ্গার ও বাটারের সঞ্চালনায় এবং কনকা ও গ্রি (ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড) এর সহযোগিতায় আয়োজিত বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস ও বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), নলেজ পার্টনার হিসেবে মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ, অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার হিসেবে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল এবং পিআর পার্টনার হিসেবে ব্যাকপেজ পিআর যুক্ত ছিল।
বাংলাদেশ রিটেইল ফোরাম ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন