নিত্যপণ্যের বাজার চড়া, বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
নিত্যপণ্যের বাজার চড়া, বিপাকে সাধারণ ক্রেতা
ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজির দামই ১০০ টাকার ওপরে উঠেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেগুন, পটল, কাঁকরোল, ধুন্দল ও করলার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢেঁড়স, কাঁচা কলা ও পুঁইশাকের দামও বেড়েছে।

বর্তমান বাজারদরে কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, শসা ১১০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১১০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।

অন্যদিকে টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবজির দামে প্রভাব পড়েছে। নিউমার্কেটের এক খুচরা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রাকের ট্রিপ খরচ এখন প্রতি যাত্রায় ২ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী রাইসুল হাসান বলেন, সবজির দাম অনেক সময় উৎপাদন ও আমদানির ওপর নির্ভর করে। তবে জ্বালানি তেলের দাম ও সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ঢাকায় আসা সবজির দামও বেড়েছে। দূরবর্তী অঞ্চল থেকে সবজি পরিবহনের পাশাপাশি তীব্র গরমে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

গত এক সপ্তাহে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পায়জাম) কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এ মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা। মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ও সরু চালের (মিনিকেট) দামও কোথাও কোথাও ২/১ টাকা বাড়তি বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৫ এবং মানভেদে সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ছিল। অন্যদিকে, প্যাকেট চিনির কেজি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত, যা এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ফার্মের মুরগির ডিমের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে চড়া। আগে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। খুচরা দোকানে পাড়া-মহল্লায় কোথাও কোথাও প্রতি হালি ডিমের দাম ৫০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ দাম পড়ছে দেড়শো টাকা ডজন।

তবে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির দর কমছে। খুচরা বিক্রেতারা ব্রয়লারের কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এরআগে দাম ৪৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ সংকটের কারণে গত এক থেকে দুই মাসে ধাপে ধাপে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে ভোক্তাদের ওপর চাপ বেড়েছে।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ক্রেতাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে বাজারদর বৃদ্ধি সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এম জি