দেশে ডেনিশ প্রযুক্তিতে আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদন শুরু

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
দেশে ডেনিশ প্রযুক্তিতে আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদন শুরু

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ (পেনফিল) স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও নভো নরডিস্ক বাংলাদেশ। ডেনমার্ক থেকে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করার এই মাইলফলকের কথা জানানো হয়।

এতদিন নভোমিক্স ও নভোর‍্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিনগুলো ডেনমার্ক থেকে আমদানি করা হতো। এখন থেকে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ বাংলাদেশেই উৎপাদন করা হবে। এর ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী এই ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে। 

সবচেয়ে খুশির খবর হলো, স্থানীয় উৎপাদনের ফলে আধুনিক এই ইনসুলিনগুলোর দাম ১৮ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে নভো নরডিস্ক।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিটি ব্যাচের গুণগত মান ডেনমার্কে যাচাই করা হবে। এসকেএফ ও নভো নরডিস্কের এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতে আমাদের স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং উন্নত মানের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দারও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান বলেন, আজকের এই অর্জন প্রমাণ করে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত এবং উচ্চমানের ওষুধ উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।

নভো নরডিস্ক বাংলাদেশের এমডি ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি জানান, ইনসুলিনের দাম কমলেও গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০৪৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। 

উল্লেখ্য, এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক ২০১২ সাল থেকে দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে, যা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

জেএইচআর