পণ্য পরিবহনে ভাড়ার ধাক্কা, বাজারে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
পণ্য পরিবহনে ভাড়ার ধাক্কা, বাজারে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ডিজেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের পণ্য পরিবহন খাতে। বিশেষ করে ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন রুটের ট্রাক ভাড়া প্রতি ট্রিপে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচের এই বিশাল উল্লম্ফনের ফলে সবজির আড়ত থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন রাজধানীতে সবজি ও নিত্যপণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলোতে এখন ডিজেলের বাড়তি দামের চাপ স্পষ্ট। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতক্ষীরা থেকে ১৫ মেট্রিক টন সবজি নিয়ে আসা একটি ট্রাকে আগে জ্বালানি বাবদ খরচ হতো ৫ হাজার ২৫০ টাকা এবং ট্রাক ভাড়া ছিল ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা বাড়লেও ট্রাক ভাড়া এক লাফে ৩৫ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ, পরিবহন খরচ বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

হিসাব অনুযায়ী, পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে প্রতি কেজি সবজিতে মাত্র এক টাকা বাড়ার কথা থাকলেও খুচরা বাজারে তা তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আগে কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ তিন টাকা থাকলেও এখন তা ছয় টাকায় দাঁড়িয়েছে।

একই চিত্র চালের বাজারেও। মোকামভিত্তিক ১৫ মেট্রিক টনের ট্রাকে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। এতে ৫০ কেজির এক বস্তা চালের দাম ১৬-১৭ টাকা বাড়ার যৌক্তিকতা থাকলেও খুচরা বাজারে বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত। আড়তদারদের মতে, বাড়তি ভাড়ার এই চাপ শেষ পর্যন্ত সরাসরি ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে।

জ্বালানির দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের এই অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাবের সহ-সভাপতি নাজির আহমেদ বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর সঠিক নজরদারির অভাবে এই অনৈতিক চর্চা বাড়ছে। যথাযথ বাজার তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন ব্যয়ের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে।

জেএইচআর