সারাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ এর ৩য় আসর। বর্নাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই প্রতিযোগীতার পর্দা উঠেছে।
শুক্রবার রাজধানীর হাতির ঝিলের এম্ফিথিয়েটারে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। মুজিব বর্ষ ও বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীকে উৎসর্গ করে ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ, তারুণ্যের বাংলাদেশ’ কে প্রতিপাদ্য হিসেবে ধারণ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্পেলবাউন্ডের পরিচালনায় তৃতীয়বারের মতো শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান, এমপি।
সাদেকুল আরেফীনের সঞ্চালনায় এবং বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ এর সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপের সহ-সভাপতি নাহিম রাজ্জাক এমপি ও যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন।
শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে এই প্রতিযোগিতা। আসরের প্রত্যেক ইভেন্টে অংশ নেয়া প্রথম তিনজন বিজয়ীকে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক দেয়া হবে। সবচেয়ে বেশি পদকজয়ী বিশ্ববিদ্যালয় পাবে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। সকালে হাতির ঝিলে ম্যারাথন এবং সাইক্লিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয় এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি এম. এ. মান্নান। উদ্বোধন ঘোষণা শেষে ম্যারাথন ও সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. এ. মান্নান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রতিবছর বঙ্গবন্ধু আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, নিঃসন্দেহে ক্রীড়ার উন্নয়নে এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এতে আমাদের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্তি, জঙ্গীবাদ বা অসামাজিক কাজ থেকে দূরে থাকবে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম ভার্চুয়াল জগতে অধিকাংশ সময় নষ্ট করছে। যা তাদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। বেশি বেশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে য্বু ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তরুণ প্রজন্মকে গঠনমূলক ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত রাখার যে প্রয়াস নিয়েছে সেটিকে আমি সাধুবাদ জানাই।
সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা এবার শুরু করেছি বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় আসর। বর্তমানে মোট ১২৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আমি অত্যন্ত অভিভূত। এই ক্রীড়ামঞ্চের মাধ্যমে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে যেটি তাদের নিজেদেরকে বিকশিত করার ক্ষেত্রেও অসামান্য অবদান রাখবে।
প্রতি বছর আমাদের প্রতিযোগীদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে নারী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে সকল কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে এই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের বুকে আমাদের গৌরবের একটি বড় স্থান করে দেবে দেশের ক্রীড়াবিদরা। ক্রীড়াক্ষেত্রে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বয়ে আনবে অসামান্য গৌরব এটাই আমার প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, ১২৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ফুটবল, ক্রিকেট, সুইমিং, অ্যাথলেটিক্স, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, সাইক্লিং, দাবা, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনসহ ১২টি ইভেন্টের সমন্বয়ে নারী, পুরুষ উভয় বিভাগে ৭ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ এর ৩য় আসর।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন