মানবিক-সাম্য-সম্প্রীতির পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে নবোদ্যম ফাউন্ডেশন

হাবিবুল্লাহ বেলালি, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২২, ০৫:২৩ পিএম
মানবিক-সাম্য-সম্প্রীতির পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে নবোদ্যম ফাউন্ডেশন

মানবিক-সাম্য-সম্প্রীতি-সৌহাদ্র্যময় পৃথিবী গড়তে ‘চলো বন্ধু বদলে যাই, মানবতার বিশ্ব চাই’—এ স্লোগানকে মননে ধারণ করে একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী বিশেষত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে নবোদ্যম ফাউন্ডেশন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একইসাথে সংগঠনটি কাজ করছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা, সাতক্ষীরার তালা উপজেলা, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, চাপাইনবয়াবগঞ্জ, পঞ্চগড়, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

মানুষের অন্যতম একটি মৌলিক অধিকার হলো শিক্ষা। বাংলাদেশে সাড়ে এগারো লক্ষাধিক পথশিশু রয়েছে, যারা এই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা নবোদ্যম ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে ফাউন্ডেশনটির সেভ দ্য টুমরো স্কুল। ঢাকা হাইকোর্টের সামনে যেমন স্কুল রয়েছে, একইভাবে স্কুল আছে ভৈরব উপজেলার বেদেপল্লীতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যাত্রা শুরু করে ‘পদ্ম স্কুল‍‍`। স্কুলের কার্যক্রম রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুনামগঞ্জের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেই মধ্যনগর একাধিক স্কুলের পাশাপাশি সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় স্কুলের কার্যক্রম চলমান। স্কুল রয়েছে মিরপুরেও। সক্রিয়ভাবে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ও জেলায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৪ অর্থাৎ মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে সেভ দ্য টুমরো স্কুল।

সমাজের ছিন্নমূল মানুষগুলো যেন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, এজন্য নিয়মিতভাবে খাদ্য, নিরাপদ পানি, ঈদের সময়ে ঈদ উপহার, শীতে শীতবস্ত্র বিতরণ সংগঠনটির নিয়মিত কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুমূর্ষু রোগীদের রক্তের চাহিদা মেটাতে কাজ করছে নবোদ্যম ব্লাড ফাইটার্স। রয়েছে নিজস্ব অ্যাপ।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও করোনাভাইরাসজনিত মানবিক বিপর্যয়কালীন সময়েও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। দেশের আটটি বিভাগে দশ সহস্রাধিক মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০ পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়েছে। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত তিন শতাধিক পরিবারকে সহযোগিতার পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ পরিবারকে সহযোগিতা করেছে। দুর্গত এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছে স্কুল, নির্মাণ করে দিয়েছে আবাসস্থল, উপহার হিসেবে দিয়েছে নৌকা।

নবোদ্যম ফাউন্ডেশনের সহকারী নির্বাহী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান জানান, আমরা আমাদের সীমিত সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে আমাদের কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষেরই নিজ অবস্থান থেকে এই অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, পথশিশুদের জন্য কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যেই কাজ করছি আমরা। সবার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতায় আগামীর তরে, একটি মানবিক পৃথিবীর তরে কাজ করে যেতে চাই।

নবোদ্যম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শরীফ ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সর্বত্রই কিছু ব্যতিক্রম মানুষ রয়েছেন যারা কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। তাদের এই জীবনবোধের কারণেই সভ্যতা কালো থেকে আলোর দিকে, মন্দ থেকে ভালোর দিকে এগিয়ে চলে। তাদের কথা মনে রেখেই আমরা নিজ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অন্যরকম স্বপ্ন দেখতে সাহস পাই। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, স্থায়ী কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।

এআই