পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি রাজনীতিকে শেখ হাসিনা ক্যান্টনমেন্টের বৃত্তের বাইরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।
বুধবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস স্মরণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভার মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, একাত্তরে সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো এমন কথা অনেকে বলে থাকেন। কিন্তু আমি সেটা বিশ্বাস করি না। মুক্তিযুদ্ধে ৮৪ বাংলাদেশি সামরিক সৈন্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৭৭ জন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। বাকি সাতজন বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষেই যুদ্ধ করেছিলেন।একাত্তরে যে রাজকার প্রজন্ম ছিলো তারা কিন্ত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি রাজাকারের পরবর্তী প্রজন্মও বৃদ্ধি পেয়েছে। একটু সুযোগ পেলেই তারা ছোবল দেবে। এখনও বাংলাদেশে পাকিস্তানের চিন্তা-চেতনা রপ্তানির বা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৌমিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-দর্শন নতুন প্রজন্ম ও যুবসমাজের কাছে পৌঁছে দিতে শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের জন্য দুইদিনব্যাপী কর্মশালা পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রিয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান। স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আফরিন তন্বীর সঞ্চালনায় আলোচনা করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুশাররাত শবনম। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস।
আরএস
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন