সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহার এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে অষ্টম দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকেরা।
রোববার (৭ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার বলেন, ‘আমাদের পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে আমরা ভালোই ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অর্থমন্ত্রণালয় ‘প্রত্যয়’ স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। আমি মনে করি, তারা ‘বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট’ না জেনেই প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। ‘প্রত্যয়’ স্কিম একটি প্রতারণা এবং বিভ্রান্তিমূলক মূলক প্রকল্প। এখানে এক পার্সেন্ট শিক্ষকও থাকতে চাইনা, যেটা অবস্থানের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে, টকশোর মাধ্যমে বার বার জানিয়ে দিয়েছেন। তবুও অর্থমন্ত্রনালয়ের কোনো কর্মকর্তার কোনো হুঁশ নেই।’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন করে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে ভেবেছিলাম এ সপ্তাহে আর আমাদের দাঁড়ানো লাগবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের এখনো দাঁড়ানো লাগছে। আমি মনে করি, আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনাও দরকার। এই আন্দোলন কতদিনে থামবে তা জানি না। কিন্তু এটা জানি ‘প্রত্যয়’ স্কিম থেকে শিক্ষকদের নাম বাতিল এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ছাড়া শিক্ষকদের আর ঘরে ফেরার উপায় নাই। শিক্ষকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা প্রায়ই শিক্ষকদের সরকারের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেয়। যেটা এর আগেও আমরা দেখেছি। তারা বিভিন্ন কৌশলে ফাদে ফেলে শিক্ষকদের চাপে রাখতে চাচ্ছে। শিক্ষকরা দেশের বিকাশের উপায় এবং বিভিন্ন প্রগতির কথা বলে। তারা সেটা নিশ্চিহ্ন করতে চাই। যেটা অন্যখানে করেই ফেলেছে। এখন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই বাকি আছে।’
কর্মসূচিতে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসী বলেন, ‘শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষক হচ্ছেন জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর। কিন্তু আমরা কাঙ্ক্ষিত সম্মান পাচ্ছি না। কোনো দেশে আমলারা যখন নীতি নির্ধারক পর্যায়ে চলে যায় তখন রাষ্ট্রের সাথে জনগণ ও ছাত্রসমাজের সঙ্গে সংঘাত ঘটে।’
কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রায় শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুলাইয়ের পর থেকে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার চাকরিতে যারা নতুন যোগ দেবেন, তারা বিদ্যমান ব্যবস্থার মতো আর অবসরোত্তর পেনশন-সুবিধা পাবেন না। তার পরিবর্তে নতুনদের বাধ্যতামূলক সর্বজনীন পেনশনের আওতাভুক্ত করা হবে। এটি প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও লাগাতার কর্মসূচি করে আসছেন।
বিআরইউ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন