জবি ছাত্র হত্যা: অভিযুক্ত ছেলেকে নিয়ে থানায় মা 

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৫, ০৫:১০ পিএম
জবি ছাত্র হত্যা: অভিযুক্ত ছেলেকে নিয়ে থানায় মা 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থী, মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ মো. মাহির রহমান নামের একজনকে আটক করেছে। নিহত জোবায়েদের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ মাহিরকে শনাক্ত করে।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ভোরবেলায় মাহির রহমানের মা তাকে নিয়ে বংশাল থানায় আসেন এবং স্বেচ্ছায় পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

রোববার বিকেলে রাজধানীর আরমানিটোলা এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে খুন হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন। পুলিশ জানায়, আরমানিটোলার একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বলেন, ‘আমরা পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করতে চেয়েছি, তারা হলেন, শিক্ষার্থী বর্ষা, তার বাবা-মা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু নাফিসকে। কিন্তু বংশাল থানার ওসি মামলা নিতে রাজি হননি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওসি বলেছেন, এতজনের নাম দেওয়া ঠিক হবে না। বর্ষার বাবা-মায়ের নাম দিলে মামলাটা নাকি হালকা হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা তাদের নাম দিতে চাই। আমরা ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে বংশাল থানার (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা যাদের নাম দিতে চান, আমরা সেই নামেই মামলা নেব। শুধু পরামর্শ দিয়েছি যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ জানায়, রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির ‘রওশন ভিলা’ নামের বাড়ির সিঁড়ি থেকে রক্তমাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় সিসিটিভি ফুটেজে দুজন তরুণকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে, তবে তাদের মুখ স্পষ্ট নয়।

গত এক বছর ধরে ওই বাড়িতেই বর্ষাকে পড়াতেন জোবায়েদ। ঘটনার পর বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। রোববার রাত ১১টার দিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বাসা থেকে থানায় আনা হয়।

হত্যার প্রতিবাদে জবি শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। তারা তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

নিহতের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই দিনের শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ২২ অক্টোবর নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।

জেএইচআর