জাতীয় ঐক্য ও নির্ভরতার প্রতীক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হচ্ছে।
এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার যবিপ্রবিতে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফ হোসেন গ্যালারিতে কোরআন তিলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া মোনাজাতসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই শোকসভা আয়োজন করা হয়।
শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যবিপ্রবির সম্মানিত রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক নার্গিস বেগম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে আপসহীন, মানবিক এবং বাংলাদেশের রাজনীতির আলোকবর্তিকা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে কিছু বলতে গেলেই আমরা স্মৃতিকাতর হয়ে যাব। তিনি ছিলেন দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকারী ও আপসহীন নেত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দেশের গণতন্ত্র ছিল ভঙ্গুর, অর্থনীতি ছিল দুর্বল এবং রাষ্ট্র কাঠামো ছিল খারাপ। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সবকিছু নতুনভাবে সাজিয়ে একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করেন। তিনি দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে সকল দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। নারী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষাসহ আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় তার চিন্তাধারা ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এছাড়াও যশোর উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয়।” তিনি সবাইকে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান।
শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, “মাতৃসম মহীয়সী নারী, ঐক্য ও নির্ভরতার প্রতীক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে আজীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তিনি সর্বজনশ্রদ্ধেয় হয়ে সকলের মনে আজীবন রয়ে যাবেন।”
অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ইঞ্জি. মো. ইমরান খান, অডিট শাখার সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, প্রক্টর দপ্তরের কর্মচারী মো. রবিউল ইসলাম ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমিন প্রমুখ। এছাড়াও শোকসভায় যবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, চেয়ারম্যানবৃন্দ, দপ্তরপ্রধানগণসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বাদ জোহর যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন