রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জবি ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

জবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জবি ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। 

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার জবি শাখার নেতৃবৃন্দ দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করার এই বর্বরোচিত ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে তনু হত্যাকাণ্ড এবং আজ ১৫৪ দিন পার হয়ে গেলেও হাদি হত্যার আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায়, এই বিচারহীনতার সুযোগেই দেশে প্রতিনিয়ত এমন জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ সময় প্রশাসন ও আইন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা রামিসা ও হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

সমাবেশে জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং ছাত্রীসংস্থার নেত্রী সুখীমন খাতুন বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ড গতকালের ঘটনা হলেও এটি প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজে ঘটে যাচ্ছে। প্রতিদিনের নিউজের পাতা ওল্টালেই আমরা এমন ধর্ষণ ও নৃশংসতার ঘটনা দেখতে পাই। এটি বর্তমানে একটি ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যার কোনো কার্যকর প্রতিকার বা প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না।”

ধর্ষণের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ার প্রধান কারণ বিচার ব্যবস্থা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা অপরাধীকে খুঁজে বের করছি, চিনছি; কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, তা করা হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, যখন কোনো এমন ঘটনা ঘটে, আমরা ফেসবুকে পোস্ট করে বা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাই। এরপর যখন অন্য একটা বিষয় সামনে চলে আসে, তখন আগের ঘটনা ভুলে যাই। ফলে আদতে কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

এ সময় তিনি বিচার বিভাগের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আপনারা আর কতটি এমন নৃশংস ঘটনা ঘটলে সজাগ হবেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন?”

মানববন্ধনে জবি ছাত্রীসংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা ইতোমধ্যে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেএইচআর