পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা। এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।
সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেন বাংলা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আনোয়ার হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসানুল হাবিব, একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. মনজুরুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাসিবুল আহসান, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা. খালিদা আক্তার, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ফজলুল হক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মমিনুল ইসলাম এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার শাপলা রানী সরকার।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আপগ্রেডেশন বোর্ড গঠনের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখে তারা অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সর্বশেষ বৈঠকেও পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন বোর্ডের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তাই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং আগামীকাল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অতীতে একই নীতিমালার আওতায় তাদের কয়েকজনকে বঞ্চিত রেখে সপ্তম গ্রেড থেকে পঞ্চম গ্রেডে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে। যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে চাকরিতে যোগদানের দিক থেকে আন্দোলনকারীদের তুলনায় জুনিয়র ছিলেন। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, কর্মবিরতি কোনো সমাধান নয়। পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করায় বোর্ডের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত ২১ মে প্রথম দফায় কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তারা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও দাবির বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন