প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার মূল নীতির পরিপন্থী হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল, যার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের শিক্ষার ব্যয়ভার কমাতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকারের ভেতরে অভ্যন্তরীণ অর্থের বরাদ্দ-সংক্রান্ত সাময়িক জটিলতার কারণেই প্রাথমিকভাবে এই ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যা এখন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত অবহিত করবেন।”

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীবান্ধব আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে পরিবারগুলোর ব্যয় যতটা সম্ভব কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তারই অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়ার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত শনিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি তখন বলেছিলেন, পরীক্ষা নিতেই হবে, আর এর জন্য টাকা দরকার। কিন্তু এখন সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফি নেওয়া হবে না। ফি নেওয়ার বিষয়ে তখন মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান এই সচিব।

দেশে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক উল্লেখ করে দেশের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, পরীক্ষার জন্য আলাদা করে ফি নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অবৈতনিক শিক্ষার মূল নীতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।”

এএন