পৌনে ৩ কোটি ব্যয়ের পরেও ফিটনেসবিহীন বাসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

মো. সাইফুল ইসলাম, জাককানইবি প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
পৌনে ৩ কোটি ব্যয়ের পরেও ফিটনেসবিহীন বাসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের পরিবহন খাতে বছরে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় চালিত বাসগুলোর মান নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফিটনেসবিহীন বাস, জরাজীর্ণ আসন, ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকিং সিস্টেম ও ছারপোকার উপদ্রবে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা এবং প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এত ব্যয়ের পরও শিক্ষার্থীরা মানসম্মত পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেছেন।

সম্প্রতি দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মোড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ভাড়ায় চালিত বাসের ব্রেক বিকল হয়ে যায়। চালক কৌশলে বাসের গতি কমিয়ে আনলে হেলপার দ্রুত নেমে চাকার নিচে ইট দিয়ে বাসটি থামান। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহানা আনজুম মিম বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই বাসের ব্রেকিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় বাস বিকল হয়ে পড়ায় সময়মতো ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও সম্ভব হয় না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত চলাচলকারী বাসগুলোর আসন ভাঙাচোরা ও অপরিচ্ছন্ন। সিটের ফাঁকফোকর এবং বাসের বিভিন্ন স্থানে ছারপোকার উপদ্রবও রয়েছে।

শিক্ষার্থী গালিব হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস হলেও এগুলো লোকাল বাসের মতো। জানালার কার্নিশসহ বিভিন্ন স্থানে ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৯টি এবং ভাড়ায় পরিচালিত ৮টি বাস রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে নতুন বাস কেনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) মো. আল-আমিন বলেন, ভাড়ায় পরিচালিত বাসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাস ভাড়া নেয়। কোনো অভিযোগ থাকলে তা পরিবহন প্রশাসকের কাছে জানানো যেতে পারে।

পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টেন্ডারের মাধ্যমে ভালো মানের বাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খোঁজা হলেও নির্ধারিত শর্ত ও রেটে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে বিআরটিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তাদের কাছ থেকে ৯টি বাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এম জি