সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে ক্রমাগত ট্রল, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। এই ধরনের সম্মানহানিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তিনি প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং কঠোর আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রাবন্তী জানান, বাকস্বাধীনতা মানেই যা খুশি বলা নয়। মানুষের ব্যক্তিগত হতাশা অন্যের ওপর এভাবে প্রকাশ করা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রলিংয়ের একটি সীমা থাকা উচিত। আমি দীর্ঘদিন অনেক কিছু উপেক্ষা করেছি, কিন্তু এখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজন কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, অনেক সময় নারীরাই অন্য নারীকে অসম্মান করছেন।
বর্তমানে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকাদের নিয়ে তৈরি কুরুচিপূর্ণ ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী জানান, এসব বিকৃত রুচির কারণেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
শ্রাবন্তী মনে করেন, যারা সামাজিক মাধ্যমে নাম-পরিচয় লুকিয়ে কিংবা প্রকাশ্যে অশালীন মন্তব্য করেন, তাদের দমনে কঠোর আইন থাকা জরুরি। তাঁর ভাষ্যমতে, শুধু নারী নয়, পুরুষরাও এখানে অপমানের শিকার হচ্ছেন। তবে নারীদের লক্ষ্যবস্তু করা যেন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই সামাজিক অসভ্যতা বন্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।
অনলাইনে এত নেতিবাচক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক মাধ্যম ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নন এই অভিনেত্রী। তিনি মনে করেন, সেখানে যেমন সমালোচক আছে, তেমনি তাঁকে ভালোবাসার মানুষের সংখ্যাও প্রচুর। এছাড়া বর্তমান ডিজিটাল যুগে পেশাগত প্রয়োজনেই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকা অপরিহার্য বলে তিনি জানান।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন