২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমণির একটি পোস্ট। প্রিয় দলের হার মেনে নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না।’
সোমবার (২০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে পরীমণি লেখেন, ‘বিয়ে টা আর করতে হলো না এই আর কি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা। আবার দেখা হবে।’
এর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ চলাকালে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রিয় দল শিরোপা জিতলে আবার বিয়ে করবেন। সে সময় ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করবো ফাইনাল।’ পোস্টটির সঙ্গে কয়েকটি ইমোজিও যুক্ত করেছিলেন। তার সেই ঘোষণাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরীমণির ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচিত। একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদের কারণে বিভিন্ন সময় তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০১০ সালে কাজিন ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০১২ সালে ফুটবলার ফেরদৌস কবীর সৌরভের সঙ্গে তার বিয়ের ছবি সামনে আসে। পরে সাংবাদিক তামিম হাসানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে বলেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়।
এরপর ২০২০ সালে নির্মাতা কামরুজ্জামান রনিকে বিয়ে করলেও সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সর্বশেষ ২০২১ সালে অভিনেতা শরিফুল রাজকে বিয়ে করেন পরীমণি। তাদের সংসারে শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে পারিবারিক টানাপোড়েনের পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
এদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয়ের আনন্দে মাতে লা রোহা।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও ফেরান তোরেসের ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। নির্ধারিত সময়ে ১০টি সেভ করে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে নতুন রেকর্ডও গড়েন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। লিওনেল মেসিকেও কার্যকরভাবে আটকে রাখে স্পেনের রক্ষণ ও মাঝমাঠ। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের বিরতির পর পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড ফেরান তোরেসের সামনে পৌঁছে যায়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড।
শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করে তারা। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন