এজলাসে তিথিকে নিয়ে বিতর্ক ও আইনজীবীদের হট্টগোল

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
এজলাসে তিথিকে নিয়ে বিতর্ক ও আইনজীবীদের হট্টগোল

স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

বুধবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের এজলাসে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শুরুতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানিতে আলভীর সঙ্গে নাট্য অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্ক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এজলাসে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুনুর রশিদ বলেন, ইকরাকে সময় না দিয়ে আলভী অভিনেত্রী তিথির জন্মদিনে নেপালে ঘুরতে যেতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করতেন। এমনকি তিথি তাঁর মেহেদি দেওয়া হাতে আলভীর নাম লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন। এসব কারণে ইকরা ফেসবুকে লিখে গেছেন যে তাঁর মৃত্যুর জন্য তিথি দায়ী। অতিরিক্ত মানসিক নির্যাতন ও অবহেলার কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে রিমান্ডের বিরোধিতা করে আলভীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রুবায়েত বলেন, আলভী একজন নাট্যশিল্পী হওয়ায় পেশাগত কারণে অনেকের সঙ্গেই তাঁর ছবি থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে বিয়ের পর ইকরার পরিবার তাঁর অমতে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়েছিল। এ সময় ইকরার একটি পুরোনো হলফনামা আদালতে পড়ে শোনানো হয়, যেখানে ইকরা নিজের পরিবারকে ‘টক্সিক’ উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় আলভীর কাছে ফিরে আসার কথা বলেছিলেন। আসামিপক্ষ আরও দাবি করে, ইকরা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও মাদক সেবন করতেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

শুনানির একপর্যায়ে ইকরাকে নিয়ে আসামিপক্ষের দেওয়া তথ্যে বাদীপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এজলাসে হট্টগোল তৈরি হলে বিচারক উভয় পক্ষকে থামিয়ে দেন এবং দুই পক্ষের দুজন করে আইনজীবী বাদে বাকিদের দূরে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।

বিচারকের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অভিনেতা আলভী বলেন, আমরা প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমাদের মধ্যে সাধারণ খুনসুটি ও অভিমান ছিল, তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। ইকরা আত্মহত্যা করার মতো কিছু ঘটেনি।

তিনি দাবি করেন, তিথির হাতের মেহেদি দেওয়া ছবিতে তাঁর নাম লেখার বিষয়টি ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি এবং নেপালে তিনি নাটকের শুটিংয়ের কাজে গিয়েছিলেন। নিজের একমাত্র সন্তানের কথা বিবেচনা করে তিনি আদালতের কাছে জামিন প্রার্থনা করেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য ও শুনানি শেষে আদালত আসামি আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসেন মৃধা গণমাধ্যমকে বলেন, আসামিপক্ষ মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। আলভী নিজেই মাদকাসক্ত ছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই ঘটনায় অভিনেত্রী তিথির কোনো ভূমিকা আছে কি না, তা বেরিয়ে আসবে।