বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। তাই অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুধু জীবনযাত্রাই নয়, অর্থনীতিকেও গভীর ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে অর্থাৎ ২০২৪ সালে তীব্র গরমে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক তিন থেকে শূন্য দশমিক চার শতাংশ।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত চার দশকে বাংলাদেশের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আরও ভয়াবহ বিষয় হলো অনুভূত তাপমাত্রা, যা আর্দ্রতার কারণে ১৯৮০ সাল থেকে বেড়েছে প্রায় ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে গরমের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণে, বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ নগর অঞ্চলে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমবাজারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই তাপজনিত অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে কৃষি ও শিল্পে উৎপাদনশীলতা কমেছে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল। রাজধানীর হিট ইনডেক্স দেশের গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত হারে বাড়ছে।
গরমে জনস্বাস্থ্যও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ক্লান্তি থেকে শুরু করে মানসিক সমস্যা উদ্বেগ ও অবসাদের মতো রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে একদিকে স্বাস্থ্য খাতে যেমন চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারায় বড় ধাক্কা আসতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিকল্পনায় সবুজায়ন বাড়ানো, কর্মস্থলে তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ সবসময় সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস তৈরি করেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের এই অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলায় কেবল দৃঢ় মনোভাব নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। অন্যথায় গরমের বোঝা শুধু মানুষের শরীরেই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এইচআই/জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন