মূত্রনালীতে পাথর কেন হয়?

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১১:০১ এএম
মূত্রনালীতে পাথর কেন হয়?

কিডনি বা মূত্রনালীর পাথর এখন বেশ পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। অনেকেই হঠাৎ তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা রক্ত দেখার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে এই সমস্যার পেছনে কাজ করে শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এক জটিল প্রক্রিয়া।

চিকিৎসকদের মতে, মানুষের প্রস্রাবে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ থাকে, যা সাধারণত তরলের সঙ্গে বের হয়ে যায়। কিন্তু যখন এই উপাদানগুলোর ঘনত্ব বেড়ে যায় বা শরীরে পানির পরিমাণ কমে যায়, তখন এগুলো একত্রিত হয়ে ছোট ছোট স্ফটিক তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এসব স্ফটিক বড় হয়ে পাথরে রূপ নেয়।

এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত পানি না পান করা। শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ঘামের সময় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

খাদ্যাভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন লাল মাংস) এবং অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, বাদাম) বেশি খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয় ব্যক্তিভেদে ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।

বংশগত কারণও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। পরিবারের কারও কিডনি বা মূত্রনালীর পাথরের ইতিহাস থাকলে অন্য সদস্যদের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে।

এ ছাড়া স্থূলতা,ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা দীর্ঘ সময় শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা—এসব কারণও পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মূত্রের খনিজ ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা পাথর গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

অনেকেই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন, যা মূত্রনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ছোট পাথর অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে পাথর বড় হলে তীব্র পেট বা পাশের ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমি ভাব কিংবা রক্ত দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কারণ, মূত্রনালীর পাথর একদিনে তৈরি হয় না দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠে। তাই দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই এ ধরনের বড় সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

এএন