ঈদযাত্রায় বাড়বে হামের সংক্রমণ!

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
ঈদযাত্রায় বাড়বে হামের সংক্রমণ!

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রতিদিনই এই রোগের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারি হিসাব মতে, ইতিমধ্যেই রোগটিতে ৫২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহার কারণে ঢাকাসহ সারা দেশের কোটি মানুষ ঈদযাত্রা শুরু করেছে, যা হামের সংক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এখনো ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গণ-রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের প্রয়োজনীয় আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড প্রদান না করা এবং পরপর দুই বছর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন না হওয়ায় শিশুরা অপুষ্টিজনিত দুর্বলতায় ভুগছে। এটি সামগ্রিকভাবে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিনের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান (সহকারী অধ্যাপক) ডা. আরিফা আকরাম জানান, দেশে হামের হার্ড ইমিউনিটি এখনো তৈরি না হওয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যু কমছে না। ঈদের ছুটিতে অসংখ্য মানুষ ঢাকা ছাড়বে এবং এক থেকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ঢাকায় ফিরবে। ফলে ঈদের পরে হামের সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হামের সংক্রমণ এড়াতে ঈদের সময় শিশুদের নিয়ে সতর্কতার সাথে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বাস, ট্রেনযাত্রা এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদের সময় শিশুদের যেন সব জায়গায় নিয়ে না যাওয়া হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভিড় রয়েছে এমন জায়গায় সুস্থ শিশুদের না নেওয়াই ভালো এবং আক্রান্ত শিশুদের কাছ থেকে সুস্থ শিশুদের দূরে রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, অবাধ ঈদযাত্রা হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। যাদের ছোট শিশু রয়েছে, তাদের এই সময়ে ঈদযাত্রা পরিহার করাই উত্তম। কারণ গ্রামে বা অন্য কোথাও গিয়ে শিশু আক্রান্ত হলে সেখানে সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু না কমা এটাই ইঙ্গিত করে যে, টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

২৪ ঘণ্টায় ১৬ শিশুর মৃত্যু: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারা দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জন এবং সন্দেহজনক হামের লক্ষণ নিয়ে ৪৪২ জনসহ মোট ৫২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তথ্যমতে, হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় এবং ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩০৬ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজার ১৬৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। এই নিয়ে দেশে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮১৩ এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৬২২ জনে দাঁড়িয়েছে।

জেএইচআর