লাইসেন্স বাতিল হওয়া আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটল। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে যুক্ত হয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, তৃতীয় বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের সরাসরি হাসপাতালে রোগীর ওপর বাস্তব প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং এমবিবিএস পাসের পর এক বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ করতে হয়। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়েছিল।
পরিস্থিতি স্পষ্ট করে অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সচল থাকবে। শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের জন্য অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে অধিদপ্তরকে জানাতে হবে। চুক্তিভুক্ত হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার দায়িত্বও আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজকে আপাতত কোনো সরকারি হাসপাতালে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তাদেরকে অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হতে হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন