ব্রাসেলসে ইইউ-আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন ও ওয়াশিংটনে আফ্রিকার নেতাদের সঙ্গে সম্মেলনে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিলেন পশ্চিমা নেতারা৷ আরও বিনিয়োগ ও সহযোগিতার অঙ্গীকার করলেন তারা৷
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় রাশিয়া ও চীনের ফায়দা হলে সেই দুই দেশের স্বৈরাচারী শাসকরা নিজস্ব স্বার্থেই শান্তি বজায় রাখবেন – এমন বিশ্বাসের উপর ভর করে পশ্চিমা বিশ্ব গত তিন দশক মোটামুটি নিশ্চিন্ত ছিল৷ রাশিয়া থেকে জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানি এবং শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে বিশ্বায়নের জয়জয়কার করা হয়েছে৷ ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা এবং তাইওয়ানের বিষয়ে চীনের তর্জনগর্জন সেই হিসেব গোলমাল করে দিয়েছে৷ রাশিয়া ও চীনের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে পশ্চিমা জগত বাকি বিশ্বের উপর সেই দুই দেশের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে৷ এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশই যে নানা কারণে রাশিয়া ও চীনকে চটাতে প্রস্তুত নয়, ইউরোপ ও অ্যামেরিকা তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷
এমনই প্রেক্ষাপটে এই দুই মহাদেশকে আরও কাছে টানতে চাইছে পশ্চিমা বিশ্ব৷ বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান জোটের শীর্ষ সম্মেলনে সেই প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে গেল৷ দুই জোটের মধ্যে সম্পর্কের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শীর্ষ নেতারা মিলিত হয়েছিলেন৷ আরও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে সমস্যা না থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলার স্পষ্ট নিন্দার উল্লেখ করা গেল না৷ বিশ্ব অর্থনীতির উপর ইউক্রেন যুদ্ধের কুপ্রভাব নিয়ে ঐকমত্য সত্ত্বেও আসিয়ানের কিছু সদস্যের আপত্তিতে সেটা সম্ভব হলো না৷
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চীনের বিপুল বিনিয়োগ ও প্রভাবের সঙ্গে ইইউ পাল্লা দিতে পারবে কিনা, সে বিষয়েও সংশয় থেকে গেল৷ ইইউ-র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল স্বীকার করেন, যে গোটা বিশ্বজুড়ে ‘ব্যাটেল অফ অফার্স` ঘটছে৷ সেই প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে হলে ইইউ-কে বিদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে৷ ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন ২০২৭ সাল পর্যন্ত আসিয়ান দেশগুলিতে ১,০০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা করেন৷ চীনের উপর ইউরোপের অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে আসিয়ানের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্কের উদ্যোগ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো ভিদোদো অবশ্য স্পষ্ট করে দেন, যে একমাত্র সমতার ভিত্তিতেই আরও মজবুত সহযোগিতা সম্ভব৷
বুধবারই অ্যাটলান্টিকের অপর প্রান্তে ওয়াশিংটনেও প্রায় একই সুর শোনা গেল৷ আফ্রিকার নেতাদের সঙ্গে এক শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাণিজ্যের মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা করেন৷ আফ্রিকার ৪৯টি দেশের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আফ্রিকার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অ্যামেরিকা পুরোপুরি নিয়োজিত৷ উল্লেখ্য, চীনের সঙ্গে আফ্রিকার বাণিজ্যের পরিমাণ অ্যামেরিকার তুলনায় চার গুণ বেশি৷ আফ্রিকার দেশগুলি চীনের সস্তার ঋণের উপরেও নির্ভরশীল৷ সেই প্রভাব-প্রতিপত্তির মোকাবিলা করতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মার্কিন বেসরকারি কোম্পানিগুলিকে আফ্রিকায় আরও বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন৷ সেই পথ সুগম করতে মার্কিন প্রশাসন প্রয়োজনীয় নীতি পরিবর্তন ও চুক্তি করতে প্রস্তুত৷
ইএফ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন