গাজা উপত্যকায় নতুন করে চালানো একাধিক ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি ঘটে। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স ও আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের সামনে জানাজার প্রস্তুতির সময় একটি ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। নিহতরা এর আগে পৃথক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, একটি ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে বেসামরিক মানুষের হতাহতের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে হামাস এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল নিয়মিত বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
একই দিনে গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় একটি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপে ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। আজ-জাওয়াইদা এলাকায় পৃথক হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। এছাড়া আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং কয়েকজন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে, আহত হয়েছেন। খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারীরও পরে মৃত্যু হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজাজুড়ে হামলার মাত্রা কমেনি। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। শুধু গত মাসেই ৪০টির বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সর্বোচ্চ।
এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেটজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই প্রাণহানিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও এখন পর্যন্ত সহিংসতা বন্ধের কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: আল জাজিরা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন