কয়েকমাসের রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষে ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব আলী আল-জাইদির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার বাগদাদে ক্ষমতাসীন শিয়া জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর এক সভায় তাকে সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।
ইরাকের রাজনীতিতে আল-জাইদির এই উত্থান বেশ নাটকীয়। মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির প্রার্থিতার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র বিরোধিতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির দ্বিতীয় মেয়াদে সমর্থন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এক ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল।
এই সংকট কাটাতে শিয়া জোট মাত্র ২৫ মিনিটের এক চূড়ান্ত বৈঠকে আল-জাইদির নামে ঐকমত্যে পৌঁছায়।
প্রথাগত রাজনীতিকদের চেয়ে আল-জাইদি কিছুটা আলাদা। তার সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য:
ব্যবসায়িক পরিচিতি: তিনি ‘ন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানি’র প্রধান। তার ব্যবসা কৃষি, রিয়েল এস্টেট, ব্যাংকিং, লজিস্টিকস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পর্যন্ত বিস্তৃত।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি আইন ও ফিন্যান্স বিষয়ে স্নাতক এবং ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তিনি ইরাকি বার অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য।
প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা: তিনি আল-শাব ইউনিভার্সিটি এবং ইশতার মেডিকেল ইনস্টিটিউটের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি আল-জানুব ইসলামিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান।
আল-জাইদির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা: আল-জাইদির কোনো রাজনৈতিক অতীত না থাকাটাই তার জন্য বড় ইতিবাচক দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কোনো পক্ষই তাকে সরাসরি প্রতিপক্ষ ভাবছে না। তার লক্ষ্য মূলত ইরাকের অর্থনীতিতে সংস্কার আনা, তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং একটি টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সূত্র: আল জাজিরা।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন