পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প’ দ্রুত বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রাজ্যে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কোনো বিদ্যমান প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় থাকা ‘অযোগ্য ব্যক্তি, মৃত ব্যক্তি এবং অ-ভারতীয়দের’ নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস) আইন এবার রাজ্যে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার গঠনের পর প্রথম ধাপে পাঁচজন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো বণ্টন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে দিলীপ ঘোষকে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বনগাঁ উত্তর আসনের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া পেয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুকে অনগ্রসর-শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া দলের পরিচিত মুখ অগ্নিমিত্রা পালকে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিসিথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটে, যারা এই নির্বাচনে ৮০টি আসন পেয়ে বর্তমানে বিরোধী দলের আসনে রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা তাদের প্রথম বৈঠকেই প্রশাসনিক সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কাজে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন