দীর্ঘদিন চলছিল ছাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতন, তত্ত্বাবধায়ক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ১২:২১ পিএম
দীর্ঘদিন চলছিল ছাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতন, তত্ত্বাবধায়ক গ্রেপ্তার

ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভার একটি ইসলামিক আবাসিক স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত স্কুল তত্ত্বাবধায়ক ৫৮ বছর বয়সী কিয়াই আশারিকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় শত শত মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল-‘নারী কোনো যৌন বস্তু নয়’ এবং ‘শিকারি’।

অভিযোগ রয়েছে, এনধোলো কুসুমো ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের এই তত্ত্বাবধায়ক কয়েক বছর ধরে দরিদ্র ও এতিম ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলগুলোতে যৌন নির্যাতনের দীর্ঘদিনের সমস্যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবী আলি ইউসরন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত একজন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলেও নির্যাতনের শিকার হতে পারেন অন্তত ৩০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, ‘একজন ভুক্তভোগীই পুরো বিষয়টি সামনে এনেছেন। তার বক্তব্য থেকেই বহু ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে।’

পুলিশ জানায়, গত ২৮ এপ্রিল আশারিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে শুরুতে তাকে আটক করা হয়নি। পরে ৪ মে তিনি পালিয়ে যান। জাকার্তা, বোগর ও সোলোর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনের পর ৬ মে রাতে মধ্য জাভা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাটি জেলার পুলিশ প্রধান জাকা ওয়াহ্যুদি জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১০ বার এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আশারি ম্যাসাজের কথা বলে ছাত্রীর কক্ষে ঢুকতেন। পরে অশালীন আচরণ করতেন। দশম ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার বাবাকে জানায়। এরপর পুলিশে অভিযোগ করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি প্রথম অভিযোগ নয়। ২০২২ সাল থেকেও আশারির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে আগের কয়েকটি অভিযোগ পরে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ বলছে, অনেক অভিভাবক সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মামলা এগিয়ে নিতে চাননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার কিছু ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রায় একই ধাঁচে ঘটে। দেশটির বৃহৎ ইসলামিক সংগঠন পিবিএনইউর যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ইউনিটের সদস্য ইমাম নাহেই বলেন, অনেক তত্ত্বাবধায়ক নিজেদের ‘অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী’ বা ‘পবিত্র ব্যক্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে বাধ্য করা হয় আনুগত্যে।

তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষকই যৌন সহিংসতার প্রকৃত সংজ্ঞা বোঝেন না। তারা মনে করেন কেবল ধর্ষণই যৌন সহিংসতা।’

বিশেষজ্ঞদের দাবি, সরকারিভাবে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে এনধোলো কুসুমো বোর্ডিং স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।

স্কুলটির ২৫২ জন শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এতিম শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর অথবা অনলাইনে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়কদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষক নিয়োগে নৈতিকতা ও শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এম জি