মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০৯:২২ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদের বিশেষ নামাজ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানির মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের নবম দিনে সম্পন্ন হয় পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরাম পরিহিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রান্তর। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন হাজিরা।

দুপুরে আরাফাতের নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় এই খুতবা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত ময়দান থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করার পাশাপাশি মিনায় শয়তানকে নিক্ষেপ করার জন্য প্রয়োজনীয় পাথর বা কঙ্কর সংগ্রহ করেন তারা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এরপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি দেবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন এবং কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফে জিয়ারাহ) করার মাধ্যমে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশে এখন ঈদের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে ঈদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সৌদি সরকার। তীব্র গরম থেকে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্পটে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত সহজ করতে নামানো হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস।

এএন