মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চলতে থাকলে বর্তমান পাল্টা জবাবের কৌশল পরিবর্তন করে ‘পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান’ শুরু করা হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মোহসেন রেজায়ি বলেন, ইরান আর শুধু হামলার জবাবে সমপর্যায়ের প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আলোচনার পথ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রেজায়ির দাবি, এখন পর্যন্ত ইরান সংঘাতের বিস্তার ঘটানো বা অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর দিকে মনোযোগ দেয়নি। বরং প্রতিরোধ গড়ে তুলে যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরিই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া নয়, প্রতিরোধের মাধ্যমে যুদ্ধের ইতি টানাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ।
মার্কিন হামলা ও ইরানের পাল্টা অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতের অভিযানে যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলার পর তারা বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের একটি হামলার পর দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন