মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর ফলে আগের দিনের মূল্যপতনের ধারা আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১২ জুন) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২১ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে।
অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ২৩ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়ায়। সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্টের দাম কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি থাকলেও হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, এখনো কোনো চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেনি তেহরান।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আইজি গ্রুপের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, এটি হয়তো আরেকটি ক্ষণস্থায়ী আশার বার্তা হতে পারে, তবে বাজারের প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক এবং স্পষ্ট।
এর আগে বুধবার ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করে যে, এই পথ ব্যবহারকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হতে পারে। তেহরানের এমন অবস্থানের কারণে বিশ্ব তেলবাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনো ওই জলপথ ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পরও তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। টনি সাইকামোর বলেন, তেলের দাম যদি ৮০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেলের ওপরে অবস্থান করে, তাহলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন