ভারতের কলকাতার ধর্মতলায় নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার ওই মন্তব্যকে ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। বিরোধীদের দাবি, বক্তব্যটি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
ধর্মতলার জনসভায় মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।
নির্বাচনের আগে বক্তব্যটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য কাম্য নয়।
শুক্রবার (১২ জুন) ওই বক্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে দেওয়া বক্তব্যটি ছিল বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক। এর ফলে সাধারণ মানুষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হতে পারে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর তিনটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। সেগুলো হলো-
ধারা ১৯৬(১): বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি কিংবা সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা।
ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা উসকানির অভিযোগ।
ধারা ৩৫২: শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান বা প্ররোচনার অভিযোগ।
এদিকে, ক্ষমতা হারানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এটি একমাত্র অভিযোগ নয়। গত ২ জুন এক জনসভায় ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তার মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনায় শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় এক আইনজীবী অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই অভিযোগে দাঙ্গায় উসকানি, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসম্প্রীতি নষ্ট করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের মতো একাধিক অভিযোগে মামলা করার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখিত ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১৫২ ধারা: রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে উসকানির অভিযোগ।
১৫৩ ধারা: দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উসকানি।
১৫৩এ ধারা: বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ।
১৯১ ও ১৯২ ধারা: দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ।
১৯৬ ধারা: জনসম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ।
৩৫১ ধারা: ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ।
৩৫২ ধারা: শান্তিভঙ্গের অভিযোগ।
পরপর একাধিক অভিযোগ ও মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং দলীয় ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনি চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দলীয় চাপও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
এখন নজর থাকবে তদন্তের অগ্রগতির দিকে এবং প্রয়োজনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করে কি না, সে বিষয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন