দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সমঝোতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার এবং মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা।
হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে পারে
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রণালিটি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্যাকেজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নতুন করে সামরিক চাপ বা অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির কথাও আলোচনায় এসেছে।
চূড়ান্ত চুক্তির আগে আরও শর্ত
ইরানি সূত্রগুলো বলছে, জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ মুক্ত করা, তেল রপ্তানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি না হলে চূড়ান্ত সমঝোতা স্বাক্ষরের পথ সহজ হবে না। সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ট্রাম্পের বার্তা
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর প্রশাসন এমন একটি সমঝোতার পথ তৈরি করেছে যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।
ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য এই সমঝোতা ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দেশটির কিছু ডানপন্থী গোষ্ঠী ও সংবাদমাধ্যম চুক্তিটিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে এবং ইরান রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
যদি এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশিত হয়নি, ফলে অনেক বিষয়ই যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন