লেবাননকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেছেন, লেবাননের পরিস্থিতির ওপর তেহরান নিবিড়ভাবে নজরদারি করবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দেশটির জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। বাঘাই বলেন, লেবাননের বিরুদ্ধে জায়নবাদী সত্তার সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান নির্দিষ্ট বিবেচনার ভিত্তিতে নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। বাঘাই বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলোর সমর্থনে সংঘটিত কয়েক দশক আগের অভ্যুত্থান থেকেই এই অবিশ্বাসের সূত্রপাত।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই ইরান তাদের বিশ্বাস করে না এবং সেই ইতিহাস ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
তিনি উল্লেখ করেন, ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। বাঘাইয়ের মতে, সেই ঘটনাই দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকটের ভিত্তি তৈরি করে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের আস্থা অর্জন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনো অনেক দূর এগোতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিল ইস্যুগুলো নিয়ে পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন