মার্কিন হামলার পর কুয়েত-বাহরাইনে পাল্টা আঘাতের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৮:০৪ এএম
মার্কিন হামলার পর কুয়েত-বাহরাইনে পাল্টা আঘাতের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রোববার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

সেন্টকম আরও বলেছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হলেও ইরান তা অনুসরণ করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে, আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় পাঁচটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বাহিনীটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল তদারকির দায়িত্ব তেহরানের হাতে রয়েছে। তাই নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।

এএন