হরমুজ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ইরান, চুক্তি না মানলে সংঘাতের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৮:২০ এএম
হরমুজ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ইরান, চুক্তি না মানলে সংঘাতের সতর্কবার্তা

হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয় ইরান। পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজ থেকে ভবিষ্যতে টোল আদায় এবং এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজেদের কর্তৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করার লক্ষ্যেও অনড় রয়েছে তেহরান। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও এ অবস্থান ধরে রাখার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী শান্তি আলোচনা কবে হবে, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। এর মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়িত না হলে তেহরান যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত।

কলিবাফের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগোবে না। কয়েক মাসের উত্তেজনার পর চলতি মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর ইরান ইতোমধ্যে চার কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান ও ওমানের কর্তৃত্ব রয়েছে এবং এই জলপথে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের জন্য পণ্যবাহী জাহাজকে টোল ছাড়াই চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের দাবি, কোন জাহাজ এই পথ ব্যবহার করবে এবং কীভাবে চলাচল করবে- সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের হাতেই থাকবে।

তেহরানের লক্ষ্য, অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, এই বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো বিতর্কিত ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রসর হবে না দেশটি।

চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো না হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ইরানের। যদিও টোলের হার বা আদায় পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে দুই দেশের সংঘাত শুরুর সময় ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করেছিল। সে সময় পারস্য উপসাগর ত্যাগকারী কিছু জাহাজের কাছ থেকে নৌ-চলাচলসহ বিভিন্ন ধরনের ফি আদায়ের দাবি করেছিল তেহরান।

এএন