ইউনিসেফ

লেবাননে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে এক লাখ শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
লেবাননে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে এক লাখ শিশু

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা না হলে লেবাননের অন্তত এক লাখ শিশু আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলে যেতে পারবে না বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

লেবাননের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ইউনিসেফ এ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে দেশটির ৩৪০টি সরকারি, বেসরকারি ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ, বেকা উপত্যকা, বালবেক-হারমেল, বৈরুত এবং মাউন্ট লেবানন অঞ্চলে।

লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কর্সি বলেন, স্কুল শুধু একটি ভবন নয়; এটি এমন একটি নিরাপদ স্থান, যেখানে শিশুরা শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো মেরামতে জরুরি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ইউনিসেফের মতে, শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে তা শিশুদের শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

মার্কোলুইজি কর্সি বলেন, একটি শিশু যত বেশি সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে, তার শেখার ক্ষতি ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তত বাড়বে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা না করে শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখাই পুনরুদ্ধারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তার ভাষায়, স্কুল পুনর্বাসন শুধু ভবন সংস্কারের বিষয় নয়; এটি শিশুদের নিরাপত্তা, আশা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ারও একটি প্রক্রিয়া।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, লেবাননের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল পুনর্বাসন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। তবে সংস্থাটির মতে, বিদ্যমান সহায়তা সত্ত্বেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সূত্র: আলজাজিরা

এম জি