সৌদির বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি হুতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
সৌদির বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি হুতির

আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। শুক্রবার (৩ জুলাই) গোষ্ঠীটি জানায়, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইরানি বেসামরিক বিমান অবতরণে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল।


এক ভিডিও বার্তায় হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, আমরা অপরাধী সৌদি শত্রুকে সতর্ক করছি, তারা যেন আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি না করে। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করলে এর জবাবে স্থল ও সমুদ্রে থাকা তাদের বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।


আল জাজিরার খবরে বলা হয়, সারি দাবি করেন, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হুতি নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় সৌদি যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে তারা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সৌদি যুদ্ধবিমানটি ২০০-এর বেশি আটকে পড়া, আহত ও অসুস্থ নাগরিক বহনকারী একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দিতে চেয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য যেকোনো পরিণতি সত্ত্বেও সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে। এর আগে হুতি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানায়, সংশ্লিষ্ট ইরানি বিমানটি নিরাপদে সানায় অবতরণ করে এবং পরে খামেনির জানাজায় অংশ নেয়া হুতি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে তেহরানে ফিরে যায়। 

হুতির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তাদের যোদ্ধারা যেকোনো বিকল্পের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং সৌদি-মার্কিন অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকার এবং হুতিরা তাদের বৃহত্তম বন্দি বিনিময়ে সম্মত হওয়ার কয়েক মাস পর এই নতুন হুমকিগুলো এল। গেল মে মাসে এই বিনিময় নিশ্চিত করা হয়, যেখানে সাতজন সৌদি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হুতি গোষ্ঠী। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটিতে গুরুতর মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই স্থবির রয়েছে।

এম জি