বেলুচিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ৩০, দায় স্বীকার করল বিএলএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
বেলুচিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ৩০, দায় স্বীকার করল বিএলএ

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

সংগঠনটির দাবি, হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৩০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএ জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান কোস্ট গার্ড ক্যাম্পে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।

বিএলএর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মজিদ ব্রিগেডের সদস্য আতাউল্লাহ বেলুচ ওরফে আজমল নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে বিস্ফোরকভর্তি গাড়িটি ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান। সংগঠনটি দাবি করেছে, এটি ছিল একটি সুইসাইড ভেহিকল-বোর্ন ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস হামলা, যা একটি সমন্বিত অভিযানের অংশ।

এ হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ক্যাম্পটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ দাবি করেছেন, বিস্ফোরণে কোস্ট গার্ডের ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, বিস্ফোরণের পর সংগঠনের ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ চারদিক থেকে ক্যাম্পে হামলা চালায়।

সংগঠনটির দাবি, এ ঘটনায় আধাসামরিক বাহিনীর ৩০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বহু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা সদস্যদের কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকার বা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এখন পর্যন্ত এ হামলা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এম জি