তীব্র তাপদাহে স্বস্তি দিতে সবার জন্য মসজিদের দরজা খুলে দিল ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
তীব্র তাপদাহে স্বস্তি দিতে সবার জন্য মসজিদের দরজা খুলে দিল ফ্রান্স

ফ্রান্সজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে দেশটির কয়েকটি মসজিদ। দাবদাহে কষ্টে থাকা মানুষের জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মসজিদগুলোর দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে যে কেউ এসে কিছু সময় বিশ্রাম নিতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকতে এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করতে পারছেন।

এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাজধানী প্যারিসের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলি মঁত্রইয়ের কয়েকটি মসজিদে। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং ফরাসি কর্তৃপক্ষ একের পর এক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করায় স্থানীয় মসজিদ কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য মসজিদ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে বয়স্ক, পথচারী এবং গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের কথা বিবেচনায় রেখেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদগুলোর নামাজের হল সাময়িকভাবে বিশ্রামকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কেউ চেয়ারে বসে ক্লান্তি দূর করছেন, আবার কেউ শীতল কার্পেটের ওপর শুয়ে কিছুটা স্বস্তি নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা আগতদের মধ্যে ঠান্ডা পানির বোতল ও খেজুর বিতরণ করছেন।

মঁত্রই মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি হাসান হারমুজ বলেন, তীব্র গরমে রাস্তায় মানুষের দুর্ভোগ দেখে তারা এই উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অনেক মানুষ শুধু একটু শীতল পরিবেশের খোঁজে ঘুরছিলেন। সেই প্রয়োজন থেকেই মসজিদগুলো সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, টানা ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের পুরো সময়জুড়েই এই সেবা চালু থাকবে। মসজিদে উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকায় ভেতরে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রয়েছে, যা বাইরে থেকে আসা মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

হাসান হারমুজের ভাষ্য, এই উদ্যোগ কেবল মুসলমানদের জন্য নয়; আশ্রয়ের প্রয়োজন এমন যে কাউকেই স্বাগত জানানো হচ্ছে। ইসলামের মানবিক শিক্ষা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দেখাতে চান, সংকটের সময়ে ফরাসি সমাজের পাশে মুসলিম সম্প্রদায়ও সমানভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

মঁত্রইয়ের আল-ইসলাহ মসজিদের খতিব ইব্রাহিম বালহাজ বলেন, চলমান দাবদাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বয়স্ক ও গৃহহীন মানুষ। তাদের সামান্য স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, মসজিদের ভূমিকা শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ফ্রান্সে ইসলামের মানবিক ও ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সংহতির বার্তা বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ফ্রান্সজুড়ে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় যখন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তখন মঁত্রইয়ের মসজিদগুলোর এই মানবিক পদক্ষেপ স্থানীয়দের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। অনেকেই মনে করছেন, সংকটের সময়ে উপাসনালয় যে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে, এই উদ্যোগ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

এএন