নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়নি

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখনো শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামনে আরও বড় পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর একটি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেখানে তিনি বলেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। সামনে আমাদের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য, আকাশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তার মতে, অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এই সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ হয়নি। তিনি জানান, নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালাতে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তার ভাষায়, আকাশে আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও ইরানে অভিযান চালানো হবে।

এর আগে গত ১৭ জুন পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পৌঁছায়। ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা।

তবে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সেই সমঝোতা কার্যত আর কার্যকর নেই। এর পর থেকেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এম জি