জামিনে বেরিয়ে ৬ জনকে হত্যা করলেন ধর্ষণ মামলার আসামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
জামিনে বেরিয়ে ৬ জনকে হত্যা করলেন ধর্ষণ মামলার আসামি

ভারতের তেলেঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলায় ধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্ত এক ব্যক্তি অভিযোগকারী কিশোরী, তার মা ও দাদিসহ ছয়জনকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্তের নিজের স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানও। 

শুক্রবার রাতে শাবাদ শহর ও পাশের একটি গ্রামে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ৩৫ বছর বয়সী ওই কৃষক শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের গ্রাম থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরের শাবাদে যান। সেখানে তিনি ওই ১৬ বছর বয়সী কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতেই কিশোরীর ৪২ বছর বয়সী মাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। পরে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় কিশোরীর ৬০ বছর বয়সী দাদিকেও হত্যা করেন।

এরপর কিশোরীকে জোরপূর্বক নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরে নিজ গ্রামের একটি লেকের পাশে নিয়ে কিশোরীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তার মরদেহ ফেলে যান অভিযুক্ত। পুলিশের ভাষ্য, বাড়িতে থাকা কিশোরীর ২০ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী বোনকে তিনি কোনো ক্ষতি করেননি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১১টা ২১ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় তার ৩১ বছর বয়সী স্ত্রী এবং চার বছর ও ১৮ মাস বয়সী দুই ছেলের গলা কেটে হত্যা করেন। পরে তিনি একটি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নিজের বাবাকে ফোন করে পুরো ঘটনার কথা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পুলিশ জানায়, গত মে মাসে ওই কিশোরীর পরিবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কিশোরীকে অনুসরণ করার অভিযোগে শিশু সুরক্ষা আইনে মামলা করে। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং জুন মাসে শাবাদের একটি স্থানীয় আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেয়। কারণ, মামলায় আনা অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

স্থানীয় পুলিশের কমিশনার তরুণ জোশি বলেন, অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কী কারণে তিনি অভিযোগকারী কিশোরী, তার পরিবারের সদস্য এবং নিজের পরিবারকে হত্যা করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জেএইচআর