আধুনিক কাতারের স্থপতি হিসেবে পরিচিত দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রোববার (১২ জুলাই) সকালে কাতারের রাজকীয় দপ্তর আমিরি দেওয়ান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৮ বছর তিনি কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আমিরি দেওয়ানের প্রকাশিত শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে দেশটি তার প্রিয় সাবেক আমির ও ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে শোকাহত। বিবৃতিতে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত ও রহমত কামনা করা হয়।
শেখ হামাদের নেতৃত্বেই কাতার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। তাঁর শাসনামলে দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে। একই সময়ে কাতার ইতিহাসের অন্যতম দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এবং মাথাপিছু আয়ের বিচারে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা ও উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। পরবর্তীতে এই সংবাদমাধ্যম মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম জগতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
১৯৫২ সালে দোহায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি কাতার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে রক্তপাতহীন এক প্রাসাদ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন।
তাঁর নেতৃত্বে কাতার শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, খেলাধুলা ও বৈশ্বিক অঙ্গনেও শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে। তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনার ফলেই ২০১০ সালে কাতার ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব অর্জন করে, যা দেশটির ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১৩ সালের জুন মাসে শেখ হামাদ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তাঁর চতুর্থ ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে। এরপর থেকে তিনি ‘ফাদার আমির’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সম্মানিত অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন